1 comments:

  1. পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের
    মধ্যে যে কত ফজিলত রয়েছে তা যদি কোন
    মুসলমান জানতো তাহলে জীবন দিয়ে হলেও
    এই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পালন করতো |
    যারা পবিত্র মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুশি মনে উদযাপন
    করবে তাদের জন্য আমার নূর
    নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
    আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে এমন এক সুসংবাদ
    দান করেছেন যা শুনলে প্রত্যেক মুসলমানের
    হৃদয়ে প্রশান্তি চলে আসবে ,
    আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে যাবে | আর এই
    সুসংবাদটি হলো যারা এই দিনকে উদযাপন
    করবে তারা হাসরের ময়দানে নাজাত
    পেয়ে যাবে , এই দিনটি তাদের নাজাতের
    উসিলা হয়ে যাবে , তাদের উপর আল্লাহর
    রহমত বর্ষিত হবে , এদের মাগফিরাতের জন্য
    ফেরেস্তারা পর্যন্ত দুয়া করবে |
    পবিত্র হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে "
    ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﺍﻟﺪَّﺭْﺩَﺍﺀِ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﺍَﻧَّﻪﻣَﺮَّ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ
    ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍِﻟٰﻰﺑَﻴْﺖِ ﻋَﺎﻣِﺮِ ﺍﻻَﻧْﺼَﺎﺭِﻯِّ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳُﻌَﻠِّﻢُ ﻭَﻗَﺎﺋِﻊَﻭِﻻﺩَﺗﻪِ ﺻَﻠَّﻰ
    ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻻَﺑْﻨَﺎﺋِﻪﻭَﻋَﺸﻪِﺗَﺮْﻴِ ﻭَﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻫٰﺬَﺍ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَﻓَﻘَﺎﻝَ
    ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺼَّﻠٰﻮﺓُ ﻭَﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﺍِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻓَﺘَﺢَﻟَﻚَ ﺍَﺑْﻮَﺍﺏَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ ﻭَﺍﻟْﻤَﻼﺋِﻜَﺔُ
    ﻛُﻠُّﻬُﻢْﻳَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭْﻥَ ﻟَﻚَ ﻣَﻦْ ﻓَﻌَﻞَ
    ﻓِﻌْﻠَﻚَ ﻧَﺠٰﻰﻧَﺠٰﺘَﻚ
    অর্থাৎ হজরত আবু দ্বারদা ( রা ) হতে বর্ণিত ,
    হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন হজরত আমির
    আনসারী ( রা ) এর গৃহে গেলেন এবং হুজুর
    দেখতে পেলেন আমির আনসারী ( রা ) উনার
    পরিবার পরিজন ও আত্বীয় স্বজনদের
    নিয়ে একত্রিত হয়ে খুশি মনে রাসুল পুর
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
    বিলাদত শরীফ পাঠ করছেন | অর্থাৎ
    নবীজি এইদিনে পৃথিবীতে আসছেন ,
    পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মাখলুক আনন্দিত
    হয়ে ইত্যাদি | এই ঘটনা শ্রবণ করে হুজুর পাক
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত
    অানন্দিত হয়ে হজরত আমির আনসারীকে বললেন ,
    আল্লাহ পাক আপনার জন্য উনার রহমতের
    দরজা প্রশস্থ করেছেন এবং সমস্থ ফেরেস্থাগন
    আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন |
    যে আপনার জন্য এইরূপ কাজ করবে নাজাত ( ফজিলত ) লাভ করবে |
    ( সুবহান আল্লাহ )
    [ সুবলুল হুদা ফি মাওলেদে মুস্তাফা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ]
    বুখারী শরীফের বিখ্যাত
    ব্যাখ্যাকারী আল্লামা ইবনে হাজার
    আসকালানী , ইমাম বদরুদ্দিন
    আইনি বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় লিখেন ,
    ﻭﺫﻛﺮ ﺍﻟﺴﻬﻴﻠﻲ ﺍﻥ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﻟﻤﺎ ﻣﺎﺕ ﺍﺑﻮ ﻟﻬﺐ ﺭﺍﻳﺘﻪ ﻓﻲ
    ﻣﻨﺎﻣﻲ ﺑﻌﺪ ﺣﻮﻝ ﻓﻲ ﺷﺮ ﺣﺎﻝ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻟﻘﻴﺖ ﺑﻌﺪ
    ﻛﻢ ﺭﺍﺣﺔ ﺍﻻ ﺍﻥ ﺍﻟﻌﺬﺍﺏ ﻳﺨﻔﻒ ﻋﻨﻲ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﺛﻨﻴﻦ ﻭﺫﻟﻚ ﺍﻥ
    ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﻟﺪ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﻛﺎﻧﺖ ﺛﻮﻳﺒﺔ
    ﺑﺸﺮﺕ ﺍﺑﺎ ﻟﻬﺐ ﺑﻤﻮﻟﺪﻩ ﻓﺎﻋﺘﻘﻬﺎ
    অর্থাৎ হজরত আব্বাস ( রা ) বর্ণনা করেন , " আবু
    লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর
    আমি তাকে স্বপ্নে দেখি |
    সে আমাকে বলে ভাই আব্বাস আমার মৃত্যুর পর
    থেকে কবরের
    জিন্দেগীতে আমি শান্তিতে নেই | কিন্তু
    প্রতি সোমবার এলেই আমার শাস্থি লাগব
    করে দেওয়া হয় | এই
    ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে হজরত আব্বাস ( রা )
    বলেন আবু লাহাবের এই সোমবারের
    শাস্তি লাগবের কারণ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিলাদত শরীফ
    উপলক্ষে হুজুর যেই দিন দুনিয়াতে আগমন করেছিলেন
    নবীজির শুভাগমনে খুশি হয়ে হজরত
    সুয়াইবা ( রা ) আজাদ করে ছিলেন | ( ফাতহুল
    বারি সরহে সহীহুল বুখারী , ওমদাতুল
    কারী শরহে সহীহুল বুখারী )|
    এখন কথা হলো আবু লাহাবের মত
    কাট্টা কাফের যদি নবীজির (দঃ)একদিনের
    বেলাদত
    শরীফে খুশি হয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রতি সোমবার
    তার জাহান্নামের আজাব লাগব হয়ে যায় ,
    আমরা যারা মুমিন মুসলমান
    তারা জীবনে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতগুলা বেলাদত
    শরীফ খুশি মনে পালন করে তার
    বিনিময়ে কি জান্নাত
    পেতে পারিনা বা নাজাত
    পেতে পারিনা ?
    এই প্রসঙ্গে উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস
    বিশারদ অলিয়ে কামেল শায়খ আব্দুল হক
    মহাদ্দেসে দেহলভী ( রহ ) বলেন ,
    ﻣﻦ ﻋﻈﻢ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻮﻟﺪﻩ ﺑﻤﺎ ﺍﻣﻜﻨﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻭﺍﻻﻛﺮﺍﻡ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ
    ﺍﻟﻔﺎﺀﺯﻳﻦ ﺑﺪﺍﺭ ﺍﻟﺴﻼﻡ
    অর্থাৎ যারা হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক
    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
    বিলাদত শরীফকে সম্মান ও তাজিম
    করবে এবং খুশি মনে পালন করবে সে চির
    শান্তির জায়গা জান্নাতের
    অধিকারী হবে |
    মাছাবাতা বিস সুন্নাহ ১ম খন্ড,
    খুত্বায়ে ইবনে নাবাতা ]
    যেখানে হাদিস শরীফে স্বয়ং আল্লাহর
    হাবিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
    মিলাদুন্নবী (দঃ)পালনকারীদের কে নাজাতের
    সুসংবাদ দিয়েছেন সেখানে বাতিল
    পন্থীরা বেদাতের
    ফতুয়া দিয়ে কি জাহান্নামের
    রাস্তা তৈরী করছেন।
    বিঃদ্রঃ চলবে ১২ তম পর্ব পর্যন্ত!
    হাফেজ আরিফুল মোস্তফা
    আরবি প্রভাষকঃ বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা।

    ReplyDelete